Radius: Off
Radius:
km Set radius for geolocation
Search

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরত্ব

বাংলাদেশে বিগত দুই দশক যাবত প্রাণিসম্পদ সেক্টরের বৃদ্ধির হার এবং এই সেক্টরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি পর্যালোচনা করলে প্রমানিত হয় যে আমাদের দেশে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি সেক্টরের তুলনায় এই সেক্টরে উন্নয়নের চাহিদা মোতাবেক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার তুলনামুলকভাবে কম। এদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠি পোল্ট্রি এবং গবাদি প্রাণি পালনের সাথে জড়িত যা খাদ্য শস্য উৎপাদনের শক্তির যোগান, পরিবহন, জৈব সার এবং জ্বালানী, অর্থ উপার্জনের উৎস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়াও প্রায় ১৬(ষোল) কোটির বিশাল জনবহুল সম্পন্ন দেশের মানুষের খাদ্যের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদন অর্থাৎ প্রাণিজাত আমিষ (ডিম, দুধ ও মাংস) উৎপাদনের বিষয়ে অসামন্য ভূমিকা পালন করছে। অধিকাংশ প্রাণিসম্পদ পুরাতন সংষ্কৃতির ধারা অনুযায়ী লালন পালন করা হয় যার ফলে উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না। এদেশে বৃহৎ সংখ্যায় প্রাণিসম্পদের উপস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে যারা তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জন্য মানুষের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। খাদ্য স্বল্পতা, রোগের প্রাদুর্ভাব, খামারী ও মধ্যস্বত্যভোগীদের মাঝে সমন্বয়ের অভাব এবং তথ্য স্বল্পতা প্রভৃতি বিষয় কাংখিত প্রাণিসম্পদ উৎপাদন তথা উন্নয়নে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করছে।

কৃষি সেক্টর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এই সেক্টর বাংলাদেশের জিডিপিতে ১৮% অবদান রাখে এবং দেশের ৪৮% জনগনের কর্মসংস্থান তৈরীতে ভূমিকা পালন করে। বিশাল জনগোষ্ঠির এই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মুলত: কৃষির উপরই নির্ভরশীল। আমাদের দেশে প্রায় ২৮.৬৯ মিলিয়ন পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি পরিবারের সংখ্যা ১৫.১৮ মিলিয়ন (কৃষি শুমারী, ২০০৮) যাহা দেশের মোট পরিবারের ৫২.৯১%। মোট পরিবারের ৫০% পোল্ট্রি এবং গবাদি প্রাণি পালনের সাথে জড়িত। দেশের সমস্ত পরিবারের মধ্যে ৩৫.৬৭% গবাদি প্রাণি পালন করে, ০.৫৮% মহিষ, ২১.৫৭% ছাগল, ৫০.৪০% মুরগী এবং ২৭.২৯% হাঁস পালনের সাথে জড়িত (কৃষি শুমারী, ২০০৮)। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই খাতে ৩.১০% বৃদ্ধির হার সহ দেশের জিডিপি তে অবদান ছিল ১.৭%। জিডিপি তে প্রাণিসম্পদ বিভাগের অবদান তুলনামুলক ভাবে কম হলেও দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, চাষাবাদ এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রাণিসম্পদ উপ সেক্টরের বৃদ্ধির হার বিভিন্ন গবাদি প্রাণি এবং পোল্ট্রির মধ্যে তাৎপর্যপুর্নভাবে বিভিন্ন রকম হয়। বৃহত গবাদি প্রাণির (গরু, মহিষ) সংখ্যাগত বৃদ্ধির চেয়ে উৎপাদনশীলতা এবং ছোট গবাদি প্রাণির (ছাগল, ভেড়া) সংখ্যাগত এবং উৎপাদনশীলতা উভয়ভাবে বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া দ্রুত অগ্রসরমান পোল্ট্রি সেক্টরের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এদেশের দারিদ্র বিমোচন, বেকারত্ব হ্রাস ও নিরাপদ প্রাণিজাত পুষ্টি সরবরাহের মাধ্যমে আমাদের টেকশই উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ের মাধ্যমে গবাদি প্রাণি ও পোল্ট্রির খাদ্য, জাত উন্নয়ন, বিভিন্ন রোগের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সহ একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক কালে কিছু প্রযুক্তি নির্ভর পরিবর্তিত নীতি প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। যাহোক, অপর্যাপ্ত আবকাঠামো এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারনে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি। সীমাবদ্ধতার সত্বেও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ছোট বা মাঝারি আকারের দুগ্ধ এবং পোল্ট্রি খামারের সম্ভাবনা খুব বেশী। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জনস্বাস্থ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকার বিরাজমান এবং উদীয়মান জুনুটিক রোগের উপর নিয়মিত নজরদারী তথা মনিটরিং, রোগ নির্নয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা প্রদান, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।